রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Investment Corporation of Bangladesh বা ICB-এর ৯২৭ কোটি টাকার বেশি আমানত কয়েকটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ ফেরত না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ICB।
আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় এখন আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।
ICB দেশের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে আমানত সংগ্রহ করে সেই অর্থ বিনিয়োগ ও আর্থিক কার্যক্রমে ব্যবহার করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে টার্ম ডিপোজিট সংগ্রহ এবং সংগৃহীত তহবিল বিভিন্ন আর্থিক খাতে ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।
ICB-এর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই অর্থবছরের শেষে প্রতিষ্ঠানটির আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে FDR স্কিম চালুর পর থেকে আমানত সংগ্রহ ICB-এর আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকায় ICB-এর জন্য অর্থ পুনরুদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে আমানত ফেরত না এলে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং তহবিল ব্যবহারের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে ৯২৭ কোটি টাকার এই অর্থ কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে কত করে আটকে আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা পৃথক দায়ের পরিমাণ উল্লেখ না করে সামগ্রিক পরিস্থিতিকেই সামনে রাখা হচ্ছে।
অর্থ উদ্ধারে প্রথম পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং পাওনা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এসব উদ্যোগে সন্তোষজনক ফল না এলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে ICB।
এ ধরনের আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রচলিত আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ইতোমধ্যে আর্থিক খাতে খেলাপি অর্থ ও পাওনা উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য, সুশাসন এবং আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগস্টে তিনটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর বা non viable ঘোষণা করে তাদের অবসায়নের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
এমন পরিস্থিতিতে ICB-এর আটকে থাকা বিপুল আমানত উদ্ধারের বিষয়টিও আর্থিক খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির অর্থ কত দ্রুত এবং কী প্রক্রিয়ায় ফেরত আসে, সেটিই এখন নজরের বিষয়।
ICB-এর জন্য অর্থ উদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দায় এবং অর্থ পরিশোধের সামর্থ্যও আলোচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে ICB-এর সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও নির্ধারণ করতে হবে।
বর্তমানে ICB-এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আটকে থাকা অর্থ যতটা সম্ভব দ্রুত পুনরুদ্ধার করা। আলোচনা ও অন্যান্য উদ্যোগে সমাধান না হলে আদালতের মাধ্যমে পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতিই সামনে রয়েছে।



