বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল, এই চারজন সেই পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
পদত্যাগ করা পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকের পর্ষদে খাজা শাহরিয়ার চেয়ারম্যান এবং এই চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পর্ষদে নতুন করে ১৪ জন পরিচালক নিয়োগ দেয়। এতে পরিচালকের সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ১৯ জন হয় এবং উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধিত্ব আবারও পর্ষদে ফিরে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তখন জানিয়েছিলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যাংকের পরিচালনা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য কয়েকটি ব্যাংকের মতো এখানে আগের উদ্যোক্তা পরিচালকদের খুঁজে না পাওয়ার পরিস্থিতি ছিল না বলেও জানান তিনি।
পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বদিউর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং আলহাজ সেলিম রহমানকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন পর্ষদে খাজা শাহরিয়ার, মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ছিলেন।
পরবর্তী ৩০ জুলাইয়ের পর্ষদ সভাতেও এই চার স্বতন্ত্র পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। ১৬ আগস্টের ৪৬৬তম সভাতেও খাজা শাহরিয়ার, শাহীন উল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ ও আশরাফুল হাসানের উপস্থিতির তথ্য ব্যাংকটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়েছে।
এদিকে ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তালিকায় বদিউর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। তালিকায় খাজা শাহরিয়ার, শাহীন উল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসানকেও স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দেখানো হচ্ছে; পাশাপাশি মোহাম্মদ আবু ইউসুফকে বোর্ড অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাইয়ে পুনর্গঠিত পর্ষদকে ঋণ আদায় বাড়ানো, করপোরেট সুশাসন শক্তিশালী করা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে নতুন পর্ষদের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোয় এই পরিবর্তন এমন সময়ে এলো, যখন গত এক বছরে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে একাধিকবার পর্ষদ পুনর্গঠন হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর স্বতন্ত্র পরিচালকদের নেতৃত্বে ব্যাংকটি পরিচালিত হচ্ছিল। পরে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে এনে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাতেও সাম্প্রতিক সময়ে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ কমে ৮৩ কোটি ২৪ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। তবে জানুয়ারি-জুন সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা ৪ শতাংশ বেড়ে ৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা হয়েছে।
চার স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর তৈরি হওয়া কাঠামোর আরেকটি অধ্যায় শেষ হলো। এখন ব্যাংকটির পরিচালনা ও সুশাসন কাঠামো কীভাবে স্থায়ী রূপ পায়, সেটিই নজরে থাকবে।



