রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের সিগন্যালে অবস্থান নেন তাঁরা। এতে আগারগাঁও ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। তবে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণার মাঠ, যা সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের দাবি, মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। কৃষিশিক্ষা, ব্যবহারিক পাঠদান ও গবেষণার স্বার্থে জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে ওই মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব, সেখানে সচিবালয় নির্মাণ না করে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার জন্য গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলা হোক।

গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভা আগারগাঁওয়ের পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এরপর সেখানে নতুন সচিবালয় নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়। এর পরপরই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা।

গত ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরদিন মাঠে চলমান মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর সেখানে থাকা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ২৯ অক্টোবর একই দাবিতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সিগন্যালে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।

মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মা/মলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর নতুন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ চাষ করে নিজেদের দখলে নেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এদিকে বুধবারের কর্মসূচি থেকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণাও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।