রাজধানীর মিরপুরের কালশী রোডে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মা/রধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি বেসরকারি সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে শ্রমিক ও পুলিশের সং/ঘর্ষের একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্য হা/মলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দিলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর-১২ এলাকার দিকে যান। একপর্যায়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের একটি দলের মধ্যে ঘেরাও হয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকজন এক পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মা/রধর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজনের দাবি, হা/মলাকারীদের একজন ওই পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেন। পরে কয়েকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে আঘাত করতে দেখা যায়। একই সময়ে কয়েকজনকে হা/মলাকারীদের থামানোর চেষ্টাও করতে দেখা গেছে। কাছের একটি সুপারশপের কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মা/রধরের ঘটনা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রে/প্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গ্রে/প্তার ব্যক্তিরা পোশাকশ্রমিক নন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পুলিশের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য; এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পিওএম-দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, আন্দোলনের মধ্যে কিছু দুষ্কৃতকারী অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বলে পুলিশের ধারণা। কালশীতে পুলিশ সদস্যকে মা/রধরের ভিডিও তাঁরা দেখেছেন এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আ/হত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ও অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের আশপাশে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রে/নেড ব্যবহার করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। সং/ঘর্ষের সময় মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়।
সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাঁদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে ৩০ হাজার টাকা এখনো শ্রমিকদের দাবি; সরকার এ পরিমাণ মজুরি নির্ধারণ করেনি। গত ১ নভেম্বর নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের প্রধান সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে মিরপুর ছাড়াও গাজীপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সং/ঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৩০৬টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।