পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিকে ভিন্ন খাতে নিতে একটি মহল আন্দোলনের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি অভিযোগ করেন, যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও একটি চিহ্নিত মহল পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পতিত সরকারের সমর্থকেরা উসকানি ও নাশকতায় জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি।

পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, কারখানায় হা/মলা ও আ/গুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় হা/মলার মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে এবং শ্রমিকদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে একটি মহল অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ বা অস্থিরতা সৃষ্টির বিষয়ে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, কারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা তদন্তে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত জানাননি মাহদী আমিন। ফলে তাঁর বক্তব্যটি সরকারের একজন উপদেষ্টার অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব বা উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে জানান তিনি।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ চলছে। মিরপুর, আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সং/ঘর্ষ, ভাঙচুর ও আ/গুনের ঘটনা ঘটেছে। ১ নভেম্বর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।

এদিকে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মাহদী আমিন তাঁর পোস্টে বলেন, মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে বলে সরকার আশা করছে।

মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিকেরা। এতে বেকারত্ব বাড়তে পারে, রপ্তানি আয় কমতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর ও শিল্পের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

তিনি জানান, শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার পাশে থাকবে। একই সঙ্গে আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।