সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃ/ত্যুর ঘটনায় করা মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) নামের এক তরুণীকে গ্রে/প্তার করেছে নৌ পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে মৃ/ত্যুর আগে তাহসিফের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তাঁকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে দিশাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। ঢাকার কাফরুল এলাকার নিজ বাসা থেকে রাত প্রায় ২টার দিকে তাঁকে গ্রে/প্তার করা হয় বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ, দিশা ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে উত্তরার একটি ভবনে যেতে দেখা যায়। ভবনটিতে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে তাঁদের সেখানে পৌঁছাতে এবং রাত ১১টা ৫১ মিনিটের দিকে বের হতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফ ও দিশার মধ্যে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল। তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দীপের সঙ্গেও দিশাকে দেখা গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্য যাচাই এবং ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা জানতে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে একই মামলায় তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রে/প্তার করা হয়। আদালত তাঁকেও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার রাতে দীপের সঙ্গে তাঁর চলাচল এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব তথ্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি হ/ত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও বাবার লিখিত অভিযোগে সরাসরি কাউকে দায়ী করা হয়নি। তিনি ছেলের মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তাহসিফ ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর ম/রদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর।

এদিকে, তাহসিফের মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন বক্তব্যের অসংগতি, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

তাহসিফের মৃ/ত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মৃ/ত্যুর আগপর্যন্ত কী ঘটেছিল, কারা জড়িত ছিলেন এবং প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।