সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃ/ত্যুর ঘটনায় হ/ত্যা মামলা করেছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। এ মামলায় তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রে/প্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে নৌপুলিশ। ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নৌপুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি উত্তরখান থানায় হলেও তদন্ত করবে নৌপুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ধু দীপের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এক যুবকের ম/রদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে উদ্ধার করা ম/রদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং ম/রদেহ উদ্ধারের মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃ/ত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশসহ কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার হোন্ডা গলি থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। পরে তাঁকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৩১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত, আলামত উদ্ধার, মোটরসাইকেল-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত স্থান নির্ধারণের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

তবে রিমান্ড আবেদন করা মানেই আদালত তা মঞ্জুর করেছেন, এমন নয়। আদালতের আদেশ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না পর্যন্ত রিমান্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বলা যাচ্ছে না।

তাহসিফের মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। দীপের বক্তব্য, পরিবারের অভিযোগ এবং উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই করে তদন্তকারীরা ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা যায় না।