সাতক্ষীরায় স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হ/ত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদার নামের এক ব্যক্তিকে মৃ/ত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ আলমগীর আশরাফ।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী ছিলেন নিহত সাবিনা ইসলামের মা জাহানারা খাতুন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবিনা ইসলামের সঙ্গে আব্দুর রউফ সরদারের বিয়ে হওয়ার পর তাঁদের একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবি নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য অর্থ দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে সাবিনার মা জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে ও নাতনিকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আব্দুর রউফ সরদারকে মৃ/ত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ঘটনা নারীর নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, আইনের প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

