৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত সরকারি গেজেটে নাম আসেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালের। ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে।
এই বিশেষ বিসিএসটি মূলত সরকারি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শূন্য পদ পূরণের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করেছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি। কমিশন জানিয়েছিল, যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি।
তবে পরবর্তী যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩০ সেপ্টেম্বর ৬১১ জনকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে। ফলে পিএসসির সাময়িক সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। গেজেটে ওই ৫৭ জনকে বাদ দেওয়ার ব্যক্তিভিত্তিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
বাদ পড়া প্রার্থীদের একজন আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলাল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। চূড়ান্ত ফলে সমাজকল্যাণ বিষয়ে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান বেলাল। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণে প্রথম হয়েও তাঁর নাম গেজেটে আসেনি এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তাঁর বাদ পড়ার পেছনে সেটি কোনো কারণ কি না। তবে তাঁর এই বক্তব্য একটি ব্যক্তিগত দাবি; তাঁকে বাদ দেওয়ার সরকারি কারণ হিসেবে এটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
বেলালের পাশাপাশি ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে আরও কয়েকজন মেধাতালিকায় থাকা প্রার্থী বাদ পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সোহেল রানাও ইতিহাস বিষয়ে প্রথম হয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে, কিন্তু তাঁর নামও চূড়ান্ত গেজেটে পাওয়া যায়নি।
ইংরেজি বিষয়ে ১৪তম হওয়া বুশরা জাহান ঐশির নামও গেজেটে নেই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইংরেজিতে তাঁর আগে ১৩তম ও পরে ১৫তম মেধাক্রমের প্রার্থীদের নাম গেজেটে থাকলেও তাঁর নাম নেই।
এদিকে ৫৭ প্রার্থীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু বিক্ষোভ করেছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বাদ পড়া প্রার্থীদের ১২ অক্টোবরের যোগদানের সময়সীমার আগেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভে আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণে প্রথম হওয়ার পরও তাঁর নাম গেজেটে না থাকায় তিনি বিষয়টির কারণ জানতে চান। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ নেই এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
৫৭ জনের নাম বাদ পড়ার বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানিয়েছেন, পিএসসি সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ, আর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেয় এবং নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
চূড়ান্ত গেজেটে নিয়োগ পাওয়া ৬১১ জনকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতন স্কেলের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ১২ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত গেজেটে আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালসহ বাদ পড়া ৫৭ জনের নাম না থাকার নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁদের বাদ দেওয়ার কারণ নিয়ে যেসব দাবি বা প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।