সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করাসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকনেতারা। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে দাবিগুলো কার্যকর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকনেতারা জানান, তাঁদের প্রথম দাবি সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১৩তম বেতন গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা। দ্বিতীয় দাবি চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা। তৃতীয় দাবি সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থসচিবের সভাপতিত্বে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে শিক্ষকনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে প্রায় এক বছর পার হলেও দাবিগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এতে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকনেতারা।

বক্তব্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। শিক্ষকনেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে ওই কর্মপরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয় বলে তাঁরা মনে করছেন।

শিক্ষকনেতারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি। শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তাই শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের জীবনমান, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার সময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। শিক্ষকনেতারা চান, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যেই দশম গ্রেডসহ তাঁদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পরও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকসমাজ হতাশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো এখনো শিক্ষকদের দাবি হিসেবেই রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড কার্যকরের বিষয়ে নতুন কোনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা এই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়নি।