রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা–কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সুমন হাওলাদার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর লালবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সুমনের অভিযোগ, প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

সুমন আরও জানান, হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা টাকা নেওয়ার পর পরিচিত ব্যক্তিদের ফোন করে আরও টাকা চাওয়ার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে তাঁকে কারমাইকেল কলেজের কাছাকাছি এলাকায় ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্তরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তথ্য দিয়েও মেলেনি প্রতিকার

ঘটনার খবর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা–কুড়িগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অবরোধে অংশ নেওয়া ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব ইমতিয়াজ বলেন, তাঁর সহপাঠীকে মারধর করে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।

শিক্ষার্থীরা জানান, লালবাগ ও কেডিসি এলাকায় ছিনতাই, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। ওই এলাকায় চলাচলের সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাঁরা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন এবং তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা একটি মোবাইল নম্বরও রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি লালবাগ থেকে পার্ক মোড় পর্যন্ত এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাতের দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা–কুড়িগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষার্থীদের

শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু একটি ঘটনার তদন্ত করলেই হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজের মধ্যবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সুমন হাওলাদারের ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তাধীন। তবে সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদনগুলোতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।