লালমনিরহাটের মোগলহাট ও আশপাশের এলাকা ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদন হয়েছে এবং শিগগিরই এর কাজ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শুক্রবার লালমনিরহাটে মোগলহাট রেলস্টেশন থেকে ধরলা নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের পর দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাঁধটি লালমনিরহাটের দক্ষিণ অংশ থেকে কুড়িগ্রাম সীমান্তের দিকে বিস্তৃত ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে মোগলহাট ও এর আশপাশের এলাকা নদীভাঙন থেকে রক্ষা করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে মোগলহাট শুল্ক স্টেশন ও স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও জানান দুলু। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শিগগির মোগলহাট পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

মোগলহাট সীমান্তে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে একসময় গুরুত্ব ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক স্টেশন ও বন্দর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে এটি পুনরায় চালুর দাবি নতুন নয়; ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নেতারা বন্দরটি চালুর দাবি জানিয়েছিলেন।

মোগলহাটের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মোগলহাট রেলস্টেশন থেকে ধরলা নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ফলে নদীতীর সংরক্ষণ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি বন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনাও একই এলাকার উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

মোগলহাটের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নদীভাঙন ও সীমান্ত বাণিজ্য—দুটি বিষয়ই স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোগলহাট লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

এর আগে ১৯৮৮ সালের বন্যায় ধরলা নদীর ওপর থাকা রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মোগলহাটের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমতে থাকে। পরে ১৯৯৫ সালে স্থলবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায় বলে সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে নতুন বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি মোগলহাট বন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী এই এলাকায় যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বন্দর চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি বা নতুন বাঁধ নির্মাণকাজ শুরুর তারিখ এখনো জানানো হয়নি।