রংপুরে আবাসিক হোটেলে ইয়াবাসহ আটক দুই পুলিশ সদস্য কারাগারে
রংপুর নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে ১৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় করা মামলায় তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নগরীর পায়রা চত্বর এলাকার স্কাই ভিউ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁদের রংপুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক দুই পুলিশ সদস্যের পরিচয়
আটক দুই ব্যক্তি হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার কোনাবাড়ি গ্রামের ওমর আলী এবং দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মিথুল ইসলাম।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি তাঁদের আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওমর আলী এর আগেও চাকরিরত অবস্থায় মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বরখাস্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, মিথুল ইসলাম রংপুর পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন।
হোটেলকক্ষ থেকে যা উদ্ধার
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় হোটেলের একটি কক্ষ তল্লাশি করে খাটের নিচে রাখা ডার্বি সিগারেটের প্যাকেট থেকে ১৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ওই কক্ষ থেকে মাদক সেবনের একটি পাইপ, চারটি গ্যাস লাইট ও দুটি ফয়েল পেপার জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। অভিযান শেষে দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মামলা
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক তাহামুদার রহমান বাদী হয়ে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে আদালতের এই আদেশের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মামলার পরবর্তী শুনানি কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় উদ্ধার করা মাদক ও সরঞ্জামের সঙ্গে দুই আসামির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আদালতে প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম।

