শাড়ি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও আইনি জটিলতার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা কারা করছেন এবং কেন করছেন। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে করা একটি পুরোনো মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই মামলার বাদীকে হু/মকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলায় আগামী ২৩ নভেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

প্রথম আলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানজিন তিশা তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল কথার অর্থ বদলে দেওয়া হয়েছে। পরে সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টে দুটি শাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির কোলাজও যুক্ত করেছেন অভিনেত্রী। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে দোষী বলা যায় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের।

তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়ি-সংক্রান্ত বিতর্কের একটি অংশ শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ, প্রচারণার শর্তে অভিনেত্রীকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি জামদানি শাড়ি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচারণা করা হয়নি এবং শাড়ির মূল্যও পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। শাড়িটি ফেরত চাওয়ার পর গালিগালাজ ও প্রা/ণনাশের হু/মকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ওই উদ্যোক্তা। এ ঘটনায় করা মামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি শাড়ি নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশাকে শাড়িটি দেওয়া হয়েছিল এবং পরদিন ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। পরে শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাদীকে গালিগালাজ ও হু/মকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

এই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ২০২৬ সালের ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত কর্মকর্তা তানজিন তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শাড়িটি ডাকযোগে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে নারাজি আবেদন করে। তাঁদের দাবি ছিল, কিছু সাক্ষ্য ও অডিও রেকর্ড যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার আদালত বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে পিবিআইয়ের আগের প্রতিবেদনের পর মামলাটির তদন্ত আবার শুরু হচ্ছে। সিআইডির তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করেন। বাদীপক্ষের অভিযোগ, আগের মামলাটি তুলে নিতে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমেও হু/মকি দেওয়া হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হু/মকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নেন এবং আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। নতুন মামলার অভিযোগও এখনো বিচারাধীন।

আইনি জটিলতার পাশাপাশি তানজিন তিশার অভিনয়জীবনের আলোচনায় রয়েছে ‘সোলজার’ সিনেমা। শাকিব খানের বিপরীতে এই সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় বাণিজ্যিক নায়িকা হিসেবে অভিষেকের কথা রয়েছে তাঁর। তবে সিনেমাটির কাজ শেষ হওয়া ও মুক্তির সময় নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুটিংয়ের সময়সূচি, কাজ শেষ না হওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এসব বিষয়ে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

‘সোলজার’ নিয়ে অনিশ্চয়তার খবরের পাশাপাশি তানজিন তিশার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোও তাঁর পেশাগত জীবন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আইনি অভিযোগ এবং বিনোদনজগতের পেশাগত অনিশ্চয়তাকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

বর্তমানে ৭৫ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে করা মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি। অন্যদিকে, বাদীকে হু/মকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলায় তানজিন তিশার আদালতে হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ২৩ নভেম্বর। তাঁর সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নিজের সম্মান ও ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। এখন তদন্তের ফল, আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ‘সোলজার’ সিনেমা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে।