রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।
ওআইসির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ জেদ্দায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মানবিক সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ চালিয়ে আসছে। তবে নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও অন্যান্য বিষয়ে নিশ্চয়তা না থাকায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো বড় অগ্রগতি পায়নি।
ওআইসি শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরা এবং মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরিতেও সংস্থাটি ভূমিকা রাখছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ওআইসির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যু এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পথ সহজ হতে পারে।
বাংলাদেশ আশা করছে, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কার্যকর অগ্রগতি আনা সম্ভব হবে।
