চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রায় চার দশক পর কোনো বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পেলেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমান বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, পারস্পরিক সংলাপ এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা বা common ground তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মকে কার্যকর করতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্য এই দায়িত্বকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. খলিলুর রহমান তার মেয়াদকালে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরাম। প্রতিবছর এই অধিবেশনে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এবং সদস্য দেশগুলোর নেতারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের কূটনীতিক হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশের কেউ এই পদে দায়িত্ব পেলেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার একটি বড় সুযোগ। এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বৈশ্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
