চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে এসেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান।
এই দায়িত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক বছরের মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা, বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবেন তিনি।
ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের কার্যক্রমে সংলাপ, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তার মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি, জাতিসংঘ সংস্কার এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ তৈরি করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য শুধু মর্যাদার নয়, বরং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।