২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার জয়ের পরও কার্ল ডেইসেরথের সকালটি শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণভাবে। স্টকহোম থেকে ফোনে পুরস্কারের খবর পাওয়ার পর তিনি প্রথমেই সেই আনন্দ ভাগ করে নেন স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুই মেয়ে খবরটি শুনে উচ্ছ্বাসে বাবাকে জড়িয়ে ধরছে।
ডেইসেরথের ১০ বছর বয়সী মেয়ে সোফি বাবাকে বলে, “Dad, you’ve won all the prizes!” অর্থাৎ, “বাবা, তুমি তো সব পুরস্কারই জিতে ফেলেছ।” ১৩ বছর বয়সী এমাও সেই মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে ছিল। পরে তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে হাডসনও বাবার কাছ থেকে খবরটি শুনে বিস্ময় ও আনন্দে তাকে জড়িয়ে ধরে।
পরিবারের এই মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতিগুলোর একটি পাওয়ার পরও ডেইসেরথের আচরণ ছিল স্বাভাবিক ও পারিবারিক। সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারের ফাঁকেও তিনি সন্তানদের স্কুলের জন্য খাবার তৈরি করেন।
স্ট্যানফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডেইসেরথ প্রতিদিন সকালে সন্তানদের জন্য স্যান্ডউইচ তৈরি করেন। নোবেল জয়ের দিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তিন সন্তানের জন্য তিনি মোট ছয়টি স্যান্ডউইচ তৈরি করেন।
কার্ল ডেইসেরথ ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলের সঙ্গে। অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অপটোজেনেটিকস আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তন এনেছে। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষ কীভাবে আচরণ, স্মৃতি, আবেগ ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তা বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি গবেষকদের নতুন সুযোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে স্নায়বিক ও মানসিক রোগের চিকিৎসায়ও এর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে।
ডেইসেরথ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক। একই সঙ্গে তিনি হাওয়ার্ড হিউজ মেডিকেল ইনস্টিটিউটের গবেষক। দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের স্নায়ু সার্কিট বোঝার জন্য নতুন প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করছেন তিনি।
নোবেল জয়ের পর তিনি কীভাবে উদযাপন করবেন, এমন প্রশ্নে ডেইসেরথের উত্তরও ছিল সংক্ষিপ্ত। তিনি বলেন, আবার কাজে ফিরতে চান, কারণ এখনো অনেক কিছু আবিষ্কার করা বাকি এবং অনেক মানুষকে সাহায্য করা দরকার।
বৈজ্ঞানিক অর্জনের এই বড় মুহূর্তে তাই আলোচনায় এসেছে শুধু ডেইসেরথের গবেষণা নয়, তার পারিবারিক জীবনও। নোবেল জয়ের খবর পেয়ে পরিবারের উচ্ছ্বাস, সন্তানের আলিঙ্গন আর প্রতিদিনের মতো সকালের খাবার তৈরির দৃশ্য অসাধারণ একটি দিনের খুব সাধারণ, মানবিক দিকটি সামনে এনেছে।