রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট সরানোর পর বদলে গেছে এলাকার চেনা দৃশ্য। দীর্ঘদিন ধরে হকার ও অস্থায়ী স্থাপনার দখলে থাকা ফুটপাত দিয়ে এখন স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করেন শরীফুল ইসলাম। সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল অন্য রকম। এত বছরেও সন্তানদের হাত ধরে এই পথে নির্বিঘ্নে হাঁটার সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, হোপ মার্কেট, বিআরটিএ কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার পর পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত হয়।
আগে এসব এলাকায় দোকান ও পণ্যের পসরা বসানোর কারণে অনেক সময় পথচারীদের মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হতো। এতে যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো। উচ্ছেদের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করছে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের পদচারী সেতুর নিচে আগে দখলে থাকা জায়গা পরিষ্কার করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুনরায় দোকান বসানো ঠেকাতেও নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বরের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষের সময় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ২৫ জনকে গ্রে/প্তা/র করার তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার অভিযান চলবে। উচ্ছেদের পর আবার কেউ জায়গা দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উচ্ছেদের পর ফুটপাতের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সিটি করপোরেশন। স্থানীয় বাসিন্দারাও চান, ফুটপাত যেন আবার দোকানপাটের দখলে চলে না যায়।
মিরপুর-১০ এলাকার ব্যস্ত সড়কগুলোর পাশে ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় পথচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি এবং পুনর্দখল ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, শুধু মিরপুর-১০ নয়, আশপাশের অন্যান্য এলাকার ফুটপাতও হাঁটার উপযোগী করা হবে।




