ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে ব্যবহৃত বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশাচালকেরা। সোমবার সকাল থেকে কয়েকশ চালক সেখানে জড়ো হয়ে বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপনসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন।

চালকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। এতে নিয়মিত গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না এবং তাদের আয়-রোজগারও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ ফেরত না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। 

তবে বিক্ষোভের দাবি শুধু বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপনে সীমাবদ্ধ ছিল না। চালকেরা পুলিশি ‘হয়রানি’ ও গাড়ি ডাম্পিং বন্ধের দাবিও জানান। একই সঙ্গে অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা, বৈধ অনুমতি ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর দাবি তোলেন তারা। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে চালকেরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিলে ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। 

বিক্ষোভকারীরা ‘পুলিশি হয়রানি বন্ধ করো’ এবং ‘যেখানে রাস্তা, সেখানে অটো চলবে’ ধরনের স্লোগানও দেন। কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, সড়কে ধরা পড়লে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এসব অভিযোগ চালকদের বক্তব্য হিসেবে এসেছে। 

অন্যদিকে চালকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎসংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ দিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেকের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে জীবিকা রক্ষার বিষয়টিকেও তারা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দাবি হিসেবে সামনে এনেছেন। 

সড়ক অবরোধের প্রভাবে প্রেস ক্লাবের সামনে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টার কর্মসূচির পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চালকেরা মিছিল নিয়ে সরে যান। দুপুর ১টার কিছু আগে পল্টন থেকে প্রেস ক্লাব অভিমুখে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। 

বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ কিছু এলাকায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন খুঁজতে হয়েছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ে রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরেই নীতিগত জটিলতা রয়েছে। ব্যস্ত প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করলেও, স্বল্প দূরত্বে কম খরচের পরিবহন হিসেবে বিপুলসংখ্যক যাত্রীও এগুলোর ওপর নির্ভর করেন। 

সোমবারের কর্মসূচিতে চালকেরা স্পষ্ট নীতিমালা ও বৈধ চলাচলের সুযোগ চাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপন এবং হয়রানি বন্ধের দাবি তুলেছেন। তাদের দাবি মানা না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।