ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজের বাসভবনে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মতবিনিময়ে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা এলাকার যানজট নিরসনে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপর মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে বড়দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবি ছিল।

জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ের সুনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, নির্মাণ ব্যয়, নকশা, অর্থায়নের ধরন বা কাজ শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো হয়নি। সরকারি অনুমোদিত প্রকল্পের তালিকাতেও এই নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকল্পতথ্য এখনো দেখা যাচ্ছে না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই পথে যাত্রীবাহী যানবাহনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। ফলে সড়কটির বিভিন্ন অংশে যানজট হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ে।

সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশের যানজট কমাতে বিকল্প সড়ক নির্মাণের ওপর জোর দেন। তাঁদের দাবির মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ও ছিল।

মতবিনিময় শেষে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে দেন। সেখানে মেরিন ড্রাইভ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি স্থানীয় যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হয়।

সরকারের নতুন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের বিদ্যমান সড়কব্যবস্থার ওপর চাপ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, সংযোগব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের ওপর।

এ মুহূর্তে যাত্রাবাড়ী থেকে সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকে সরকারের একটি পরিকল্পনা হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, ব্যয় ও বাস্তবায়ন সূচি প্রকাশের পরই এর পরবর্তী অগ্রগতি স্পষ্ট হবে।