তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ ২০২৭ সালেই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বুধবার ২৬ আগস্ট বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করে বাস্তবায়নের কথা উঠে আসে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও হাঁস পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিস্তা নদী ঘিরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি। পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও সেচের সঙ্গে তিস্তার পানি সরাসরি যুক্ত হওয়ায় মহাপরিকল্পনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি চলতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার সামনে এসেছে। গত জুলাইয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে এবং প্রকল্পের কাজ অচিরেই শুরু হবে।

এর আগে ১৫ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুও জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও সমীক্ষা শেষে ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বড় ও সংবেদনশীল হওয়ায় বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই জরুরি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য রয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, কাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত ধাপ সম্পর্কে সর্বশেষ ঘোষণায় নতুন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৭ সালে কাজ শুরুর ঘোষণা আসায় এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে। বিশেষ করে কারিগরি সমীক্ষা, প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও অর্থায়নসহ পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে এগোয়, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিস্তা নদী ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পানি সংকট, নদীভাঙন ও কৃষিনির্ভর জীবিকার সঙ্গে এই মহাপরিকল্পনা সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ঘোষিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালে কাজ শুরু হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের জন্য এটি হবে বড় একটি উন্নয়ন উদ্যোগ।