রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ এবং একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এখন এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের প্রত্যাবাসনের আলোচনা চললেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত রয়েছে।

বাংলাদেশ এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে আসছে। এবার জাতিসংঘের মঞ্চে প্রত্যাবাসনের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ নেয়, সেটিই এখন বড় বিষয়। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।