চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। নিয়মিত ও অনিয়মিত উভয় ধরনের পরীক্ষার্থী এ সুযোগ পাবেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের শুধু যেসব বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব বিষয়েই আবার পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ এক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে ওই একটি বিষয়ে এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলে ওই দুই বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন তাঁরা। যেসব বিষয়ে আগে উত্তীর্ণ হয়েছেন, সেগুলোর ফল বহাল থাকবে। নতুন পরীক্ষার ফল আগের ফলের সঙ্গে যুক্ত করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। ফলে নতুন এ সিদ্ধান্তের আওতায় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী আগের মতো পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ডিসেম্বরেই আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এর আগে ২ নভেম্বর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরুর একটি খসড়া পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে ৪ নভেম্বর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার শুরুর তারিখ ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার রুটিন, আবেদনপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তাই পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে।