২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। এমন ফলের পর শূন্য পাস ও আশঙ্কাজনক ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বার্তায় এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। ২০২৫ সালে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। ২০২৪ সালে ছিল ৬৫টি। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, চলতি বছর শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি।

সামগ্রিক ফলাফলেও অবনতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৯৭ থেকে কমে ৪০ হাজার ৮৪ হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফলের এই চিত্রে শুধু শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ না হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ফল খারাপ হওয়ার কারণ এক নয়। তাই তদন্ত ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আশঙ্কাজনক ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু পাসের সংখ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলাফল, শিক্ষকদের পাঠদান, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমও পর্যালোচনায় আসতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের জন্য এবারের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন শিক্ষা প্রশাসনের সামনে বড় দায়িত্ব।