দেশের ১০টি নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। ছাত্রীদের মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও ভার্টিক্যাল ইনোভেশনস লিমিটেডের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে ইবিএলের উইমেন ব্যাংকিং বিভাগ। ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ
চুক্তি অনুযায়ী, ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ইস্টার্ন ব্যাংক। অন্যদিকে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করবে। মেশিন স্থাপন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার দায়িত্বে থাকবে ভার্টিক্যাল ইনোভেশনস লিমিটেড।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রী সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি মাসিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রমও পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল এবং এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ জুলকার নায়েন।
এ ছাড়া ব্যাংকটির প্রায়োরিটি ও উইমেন ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান তানজেরী হক, স্কয়ার টয়লেট্রিজের মার্কেটিং ম্যানেজার তেহসিনা খানম এবং ভার্টিক্যাল ইনোভেশনসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা দিনা আফসানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী হাতের কাছে না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে হঠাৎ মাসিক শুরু হলে বা প্রয়োজনীয় ন্যাপকিন সঙ্গে না থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হলে প্রয়োজনের সময় ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মাসিক নিয়ে অস্বস্তি কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও সহায়তা করবে বলে আশা করছে উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।
এখনো জানানো হয়নি কোন ১০ প্রতিষ্ঠানে বসবে মেশিন
ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে, কবে নাগাদ স্থাপন কার্যক্রম শেষ হবে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে মেশিন থেকে ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইবিএল উইমেন ব্যাংকিং জানিয়েছে, আর্থিক সেবার বাইরেও নারীদের স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে চায় তারা। নতুন এই অংশীদারত্ব সেই উদ্যোগেরই অংশ।
উল্লেখ্য, এটি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ ও চুক্তির ঘোষণা। দেশের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে সব মেশিন স্থাপন করা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
