উপকূলীয় বাংলাদেশের খাবার পানিতে বাড়তি লবণাক্ততা এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হয়ে উঠছে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে icddr,b এবং Imperial College London। গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে বলা হয়েছে, উপকূলীয় এই দুই উপজেলায় ব্যবহৃত খাবার পানির উৎসগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশে লবণাক্ততা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, কয়রার প্রায় ৫৫.৩ শতাংশ এবং আশাশুনির প্রায় ২৩.৩ শতাংশ পানির উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। একই গবেষণায় ৪০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে cardiovascular risk assessment করে দেখা যায়, মোট ২১.৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে অন্তত মাঝারি মাত্রার হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, বিষয়টিকে সরলভাবে শুধু “লবণাক্ত পানি খেলেই হৃদ্‌রোগ হবে” এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না। তবে খাবার পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা, উচ্চ রক্তচাপ, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং জলবায়ুজনিত পরিবেশগত চাপে মিলিতভাবে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ খাবার পানির সীমাবদ্ধতা বহুদিনের সমস্যা। অনেক এলাকায় মানুষকে লবণাক্ততা-প্রবণ উৎস থেকেই দৈনন্দিন পানি সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে high blood pressure, cardiovascular disease এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপকূলীয় এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শুধু চিকিৎসা নয়, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, জনসচেতনতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জলবায়ু অভিযোজনভিত্তিক নীতি—সবকিছুকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

অর্থাৎ উপকূলের লবণাক্ততা এখন কেবল নদী, মাটি বা চাষাবাদের সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে মানুষের হৃদ্‌স্বাস্থ্যকেও বড়ভাবে প্রভাবিত করছে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন এই গবেষণা।