দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের তিনজনকেই সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন এই তিন মৃত্যু নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামসদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৪। এ সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৯৯ জন। ফলে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩৩।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৯৭ জনের মধ্যে হামসদৃশ উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় ১৩১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামসদৃশ উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০৪।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।
তবে ২৪ আগস্টের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন বুলেটিনে ২৩ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ২৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের ঘরগুলো বর্তমানে শূন্য দেখাচ্ছে এবং সেটিকে তথ্য হালনাগাদের ভিত্তিতে প্রকাশিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ২৪ আগস্টের জন্য নতুন মৃত্যু বা আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত না করে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত পরিসংখ্যান হিসেবে ২৩ আগস্টের তথ্যই ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বড় থাকলেও বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই সঙ্গে নতুন মৃত্যু ও নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা অব্যাহত থাকায় হাম পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।



