চার বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কণিকা কাপুর। ‘বেবি ডল’ খ্যাত এই গায়িকা লন্ডনপ্রবাসী ব্যবসায়ী স্বামী গৌতম হাথিরামানির সঙ্গে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদনজগতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কণিকা লেখেন, অনেক চিন্তাভাবনা ও বিবেচনার পর তিনি এবং তাঁর স্বামী আলাদা পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন গায়িকা। একই সঙ্গে জীবনের এই পরিবর্তনের সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখাতে এবং সহানুভূতিশীল থাকতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করেননি কণিকা।
এদিকে বি/চ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনার বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মুম্বাই মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন কণিকা। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁদের আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি নিজে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি এবং তাঁর জানা অনুযায়ী গৌতমও অন্য কোনো সম্পর্কে জড়াননি। লন্ডন ছেড়ে লাগোসে থাকতে না চাওয়ার কারণে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, এমন আলোচনাও নাকচ করেন তিনি।
দ্বিতীয়বারের মতো বি/চ্ছেদের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে কণিকা জানান, বিষয়টি তাঁর জন্য দুঃখ ও হতাশার। তবে ভবিষ্যতে গৌতমের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান তিনি। বর্তমানে মুম্বাইয়ে তিনটি নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। পাশাপাশি তাঁর তিন সন্তানের দায়িত্বও তাঁকে পালন করতে হচ্ছে।
কণিকা ও গৌতমের পরিচয় প্রায় ১৫ বছরের। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এক সাক্ষাৎকারে কণিকা জানিয়েছিলেন, তিনি ২০১৪ সালে প্রথমবার এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বার গৌতমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে ২০২১ সালের আগস্টে গৌতম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। অবশেষে ২০২২ সালের ২০ মে লন্ডনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন তাঁরা। বিয়ের অনুষ্ঠানে কণিকার প্রথম সংসারের তিন সন্তানও উপস্থিত ছিল।
এর আগে ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্যবসায়ী রাজ চন্দকের সঙ্গে প্রথমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কণিকা। বিয়ের পর তিনি লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে আয়ানা ও সামারা এবং ছেলে যুবরাজের জন্ম হয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের দাম্পত্যের পর ২০১২ সালে তাঁদের বি/চ্ছেদ হয়। প্রথম সংসার ভাঙার পর সন্তানদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগীতজগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৪ সালে সানি লিওন অভিনীত ‘রাগিনি এমএমএস ২’ সিনেমার ‘বেবি ডল’ গানে কণ্ঠ দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান কণিকা কাপুর। গানটি তাঁকে বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। একই বছর শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমার ‘লাভলি’ গানেও কণ্ঠ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘চিট্টিয়া কালাইয়াঁ’, ‘দেশি লুক’, ‘নাচন ফারাতে’ ও ‘দা দা দাসে’-এর মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এই শিল্পী। ২০১৯ সালে সংগীতবিষয়ক রিয়্যালিটি শো ‘দ্য ভয়েস’-এর বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দ্বিতীয় সংসার ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপাতত বিস্তারিত কিছু জানাতে চান না কণিকা কাপুর। নিজের বক্তব্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, চার বছরের দাম্পত্যের পর তাঁদের আলাদা হওয়ার খবরে অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।




