বিশাল গর্তে ধসে পড়েছে হলিউড অভিনেতা নিকোলাস কেজের সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ির সামনের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুতে অবস্থিত তাঁর প্রায় ১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ির গাড়ি রাখার পথ ও আশপাশের এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে থাকতে পারছেন না ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা। বর্তমানে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন তিনি।
গত ৩১ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস কমিক কন অনুষ্ঠানে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানান নিকোলাস কেজ। হ্যালোইন কীভাবে কাটাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে কিছুটা গৃহহীন অবস্থায় আছি। মালিবুতে আমার বাড়িতে কিছু একটা ঘটেছে। তাই আপাতত হোটেলে থাকছি।’
তাঁর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমে আলোচনায় আসে। তবে কেজ আক্ষরিক অর্থে রাস্তায় বসবাস করছেন না; বাড়িতে থাকতে না পেরে হোটেলে অবস্থান করছেন।
কীভাবে তৈরি হলো বিশাল গর্ত?
গত ৮ সেপ্টেম্বর মালিবুর সি লেভেল ড্রাইভ এলাকায় ভয়াবহ ভূমিক্ষয়ের কারণে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়। উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, উত্তাল সমুদ্র ও জোয়ারের প্রভাবে মাটি ধসে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গর্তটি প্রায় ২৫ ফুট গভীর এবং ৩০ ফুট প্রশস্ত থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নিকোলাস কেজের বাড়ির সামনের গাড়ি রাখার রাস্তা ও আশপাশের স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর মালিবু নগর কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ৩১টি সম্পত্তির ওপর প্রবেশ ও বসবাসসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সেবা ও যানবাহন চলাচলের পথও বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তার কারণে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে বাসিন্দাদের
মালিবু নগর কর্তৃপক্ষের ১১ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সি লেভেল ড্রাইভ এলাকার ৩১টি সম্পত্তির ওপর জারি করা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের চিহ্ন বহাল থাকবে। ওই এলাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার একমাত্র সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
নিকোলাস কেজের বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারাও এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ফলে ঘটনাটি শুধু একজন হলিউড তারকার বাড়ির ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; পুরো এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও বসবাসের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বাড়ি রক্ষায় কী করছেন নিকোলাস কেজ?
বাড়িটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেতা। পেজ সিক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ত তৈরির পরপরই বাড়ির নিরাপত্তা ও মেরামতের জন্য জরুরি অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
সমুদ্রের ঢেউ ও উপকূলীয় ক্ষয় থেকে বাড়িটিকে রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন। পাশাপাশি ধসে পড়া অ্যাসফল্ট ও নির্মাণসামগ্রী সরানো, মাটি পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতে মাটি স্থিতিশীল করার কাজের প্রস্তুতির জন্যও অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
তবে বাড়িটি পুরোপুরি মেরামত করে কবে আবার সেখানে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।
মেয়েকে নিয়ে হ্যালোইন কাটানোর পরিকল্পনা
বাড়িতে থাকতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে হ্যালোইন উদ্যাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন নিকোলাস কেজ। তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে অগাস্টকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় ঘুরে ঘুরে ক্যান্ডি সংগ্রহ করার কথা জানান তিনি।
মেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর স্ট্যানলি কুবরিক পরিচালিত বিখ্যাত হরর সিনেমা ‘দ্য শাইনিং’ দেখার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।
অন্যদিকে মালিবুর বাড়ির মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ এখনো চলছে। কবে নাগাদ বাড়িটি বসবাসের উপযোগী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
হলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা নিকোলাস কেজের এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উপকূলীয় ভূমিক্ষয় কতটা বড় সম্পত্তি ও বসতবাড়িকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।




