শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব উদ্‌যাপন, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো কিংবা পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের পরিকল্পনায় সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করছেন অনেক যাত্রী। দীর্ঘ ছুটির শেষ দিকে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় আগাম প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ অক্টোবরও ছুটির আওতায় আনা হয়। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির সময় সাধারণত দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রী চলাচলের চাহিদা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় যাওয়া এবং ছুটি শেষে আবার রাজধানীতে ফেরার ক্ষেত্রে পরিবহনের টিকিট ও সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ কারণে যাত্রীদের যাত্রার দিন ও সময় আগেভাগে নির্ধারণ করার পাশাপাশি বাস ও ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে পৌঁছানো এবং টিকিটের তথ্য যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রার তারিখ, গন্তব্য, ট্রেন ও আসনের শ্রেণি নির্বাচন করে টিকিট কেনা যায়।

রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। অননুমোদিত ব্যক্তি বা মাধ্যম থেকে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি থাকতে পারে।

সড়কপথে যাত্রীদের জন্যও কিছু প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। দূরপাল্লার বাসে যাত্রার আগে টিকিটের মূল্য, আসন নম্বর, পরিবহনের নাম এবং ছাড়ার সময় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করলে বাড়তি সময় হাতে রাখা ভালো। দীর্ঘ পথের ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার পানি এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী সঙ্গে রাখা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

মহাসড়কে যাতায়াতের সময় যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অনিরাপদ যাত্রী পরিবহন এড়িয়ে চলা জরুরি। যাত্রীদেরও চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা না করা এবং নির্ধারিত স্থানে ওঠানামার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে দীর্ঘ ছুটিতে ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রার আগে গাড়ির ব্রেক, টায়ার, বাতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং সড়কের গতিসীমা মেনে চলা নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

দুর্গাপূজার এই ছুটি শুধু ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই দীর্ঘ অবকাশকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন।

এ কারণে কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের পরিকল্পনায় নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কোনো নির্দিষ্ট মহাসড়কে যানজট, বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড় কিংবা ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের তথ্য নিশ্চিত না হয়ে তা ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর রোববার সরকারি অফিস খোলার কথা রয়েছে। ফলে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে ফেরার পরিকল্পনা করতে পারেন অনেকে।

শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে ফিরতি টিকিট আগেভাগে সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় সময় হাতে রেখে যাত্রা এবং বিকল্প পরিবহন সম্পর্কে ধারণা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া যাত্রাপথে মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখা, অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকা এবং শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

দূরপাল্লার যাত্রায় মোবাইল ফোন সচল রাখা, পরিবারের সদস্যদের যাত্রার সময়সূচি জানিয়ে রাখা এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর সঙ্গে রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়া সহজ হতে পারে।

দীর্ঘ ছুটি দেশের পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাস, ট্রেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় পরিবহনসেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের আয়েও ভ্রমণের চাহিদার প্রভাব পড়তে পারে।