সীমান্তে নজরদারিতে ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি
বাংলাদেশের সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রচলিত টহলের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, নাইট-ভিশন যন্ত্র, ড্রোন, রাডার ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিজিবির সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্তের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তাঝুঁকি ও কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সঙ্গে প্রচলিত টহল কার্যক্রম সমন্বয় করে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্ধকারেও নজরদারিতে থার্মাল ক্যামেরা
সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, নদীতীর, চরাঞ্চল ও ঘন বনভূমিতে নজরদারি চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং। এসব এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করতে থার্মাল ইমেজিং ও নাইট-ভিশন প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা রাখে।
থার্মাল ক্যামেরা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর তাপের পার্থক্য শনাক্ত করতে পারে। ফলে অন্ধকার কিংবা দৃশ্যমানতা কম থাকলেও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। অন্যদিকে নাইট-ভিশন যন্ত্র রাতের বেলায় টহল ও নজরদারিতে সহায়তা করে।
দুর্গম এলাকায় নজরদারিতে ড্রোন
সীমান্তের বিস্তীর্ণ ও দুর্গম এলাকায় আকাশপথে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করছে ড্রোন। নদী ও চরাঞ্চলসহ যেসব জায়গায় স্থলপথে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতির ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
গত ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন করা হয়। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আধুনিক ড্রোন পরিচালনা ও নজরদারির কাজে বিজিবি সদস্যদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড্রোন ও থার্মাল যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিজিবির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাসসের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজিবি নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচটি মাঝারি পাল্লার ড্রোন, ৫০টি স্বল্পপাল্লার থার্মাল ইমেজিং ড্রোন, ৮২টি নজরদারি ড্রোন এবং ১০টি হাতে বহনযোগ্য অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া মিয়ানমার সীমান্তে ২১টি এবং ভারত সীমান্তে ১৪৫টি নাইট-ভিশন ক্যামেরা ও থার্মাল যন্ত্র স্থাপনের তথ্য জানানো হয়েছে।
রাডার ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাও যুক্ত হচ্ছে
নজরদারির পাশাপাশি রাডার ও অন্যান্য সেন্সরভিত্তিক ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চলাচল শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। আর আধুনিক রেডিও ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় সহজ হয়।
বিজিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়তা করছে। তবে প্রযুক্তি সীমান্তরক্ষীদের বিকল্প নয়; বরং তাঁদের কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর উপায়।
সীমান্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক প্রশিক্ষণ, তথ্য যাচাই, কার্যকর সমন্বয় এবং আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। আধুনিক সরঞ্জামের পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও নিয়মিত টহলের সমন্বয়ই সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।




