দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ের আবেদনের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর)। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করা, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসূচিটি চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করা হয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা জেলার সব উপজেলায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব জেলার যোগ্য তরুণ উদ্যোক্তারা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। অন্য জেলার উদ্যোক্তাদের জন্যও পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখে তাঁর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে পারবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং নিজের ব্যবসা, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপযোগী পরিকল্পনা থাকতে হবে।
কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবামূলক কার্যক্রম, হালকা প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোগগুলো এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, অ্যাগ্রিটেক, হেলথটেকসহ প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী অন্যান্য বৈধ ব্যবসাও অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে।
তবে আবেদন করলেই সবাই ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত মূলধনের চাহিদা, প্রস্তাবিত ব্যয় এবং মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ঋণ ও অনুদানের অনুপাত থাকবে সমান। অর্থাৎ কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা অনুমোদিত হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় সহায়ক জামানত ছাড়াও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ঋণ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত হলেই কেবল অনুদান পাওয়া যাবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ একই সময়ে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। নগদে কোনো অর্থ বিতরণ করা হবে না।
ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হলে অনুদানের অর্থও ঋণে রূপান্তরিত হবে। সে ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও রয়েছে। আগে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচিতে বিবেচিত হবেন না। ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন না। আবেদনপত্রে অসত্য তথ্য দেওয়া হলে আবেদন বাতিলের বিধান রয়েছে।
আগ্রহী উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিজ উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সরাসরি ব্যাংক শাখা থেকেও ফরম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ বা প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট আকারের ছবি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ থাকলে তা জমা দিতে হবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদন গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রাথমিক যাচাই ও বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যবসায়িক ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা, বাজার সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পরও ব্যাংকের নিজস্ব ঋণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রথম পর্যায়ের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ। ফলে সংশ্লিষ্ট আট জেলার যোগ্য তরুণ উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা দিতে হবে।

