৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগের গেজেটে নাম না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একদল প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সব ধাপ পেরিয়ে সুপারিশ পাওয়ার পরও তাঁদের কাউকে কাউকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে। এতে পিএসসির সুপারিশ পাওয়া ১ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১০৫ জনের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বাদ পড়ার কারণ জানতে চান প্রার্থীরা
গেজেটে নাম না আসা প্রার্থীদের কয়েকজন ঢাকার রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা না থাকলে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
প্রার্থীরা বাদ পড়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো, নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া এবং যাচাইপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সুপারিশ পাওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে তাঁরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেন।
বাদ পড়া প্রার্থীদের একজন নূরে আলম জানিয়েছেন, তিনি ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বর্তমানে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। কিন্তু ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পরও তাঁর নাম গেজেটে আসেনি। আগের চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার পরও এবার কেন বাদ পড়েছেন, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চান তিনি।
পুনঃযাচাইয়ের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সরকারি নিয়োগের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থীদের তথ্য যাচাই করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গেজেটে নাম না আসা প্রার্থীদের অর্ধেকের বেশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য আইনি নথির ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে বাদ পড়েছেন। অন্যদের বিষয়ও সরকারের নজরে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইনি কাঠামোর মধ্যে যাঁরা নিয়োগের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তবে এই আশ্বাসের পর এখন পর্যন্ত সংশোধিত বা সম্পূরক গেজেট প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। পুনঃযাচাই কখন শুরু হবে, কত দিনের মধ্যে শেষ হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
১০৫ জনের সবাই কি একই কারণে বাদ?
চূড়ান্ত গেজেটে ১০৫ জনের নাম না থাকলেও তাঁদের সবাই একই কারণে বাদ পড়েছেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের বক্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চিকিৎসা পরীক্ষায় অনুপস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি ও অন্যান্য যাচাইসংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছে।
দ্য ডেইলি স্টারের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে একজনের সুপারিশ বাতিল হয়েছিল এবং ৪৮ জন চিকিৎসা পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে প্রার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ থেকে জানা গেছে। অন্যদিকে, আরও ৫৬ জন কেন বাদ পড়েছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্য প্রার্থীদের দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের বিষয়ে পৃথক কারণসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হয়নি।
এ কারণে পুনঃযাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রার্থীর নথি, চিকিৎসা পরীক্ষার অবস্থা ও অন্যান্য আইনগত বিষয় পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যাঁদের নিয়োগে কোনো বাধা নেই, তাঁদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এখন নজর পুনঃযাচাইয়ের ফলাফলে
বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং সরকারি নিয়োগের গেজেট দুটি পৃথক ধাপ। পিএসসির সুপারিশের পরও চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে সেই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রার্থী বাদ পড়লে সিদ্ধান্তের কারণ জানা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া তাঁদের দাবির অন্যতম বিষয়।
এখন বাদ পড়া প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পুনঃযাচাইয়ের ফলাফল ও সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, যাচাইপ্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে এবং নিয়োগের যোগ্য প্রার্থীদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।



