৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম দফায় বাদ পড়া আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় দফায় এসব প্রার্থীর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে পিএসসির চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা প্রার্থীদের মধ্যে ৫৭ জনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাদ পড়া ৫৭ জনের সবাই নিয়োগের জন্য বিবেচনাধীন ছিলেন না। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিএসসি ৬৬৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে নিয়োগের পরবর্তী ধাপের জন্য মোট ৬৫৭ জনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
প্রথম দফায় ৬১১ জনের নিয়োগের পর বাকি ছিলেন ৪৬ জন। ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নিয়মিত যাচাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ওই ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ৫ অক্টোবর জারি করা হতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীর সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না বলেও তিনি জানান।
সেই ঘোষণার পর ৫ অক্টোবর রাতে ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলো। ফলে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে এখন পর্যন্ত দুই দফায় মোট ৬৫১ জন নিয়োগ পেলেন। বাকি ৬ জনের বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক বলে গণ্য হবেন এবং তাঁর নিয়োগ বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে মোট ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে পিএসসি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ১৫টি পদে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ায় সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী যাচাই, সনদ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগের জন্য কার্যকর প্রার্থীর সংখ্যা আরও কমে আসে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। চাকরিতে যোগদানের পর তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার শর্তও রয়েছে।

