২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ লাখ মানুষকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতায় আনার পরিকল্পনা
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীকে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষকে শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছেন, তাদের জন্য সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৪০ জেলার ৪০ উপজেলায় একটি পাইলট কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে সাক্ষরতার ধারণা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাও আধুনিক সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারীদের জীবনমুখী শিক্ষা, মৌলিক প্রযুক্তি ব্যবহার, কারিগরি দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যুরো অব নন ফরমাল এডুকেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এখনো একটি বড় জনগোষ্ঠী মৌলিক শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা কর্মসূচি শুধু শিক্ষার হার বাড়াবে না, বরং কর্মসংস্থান ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এজন্য নিয়মিত শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকেও আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এমন কর্মসূচি সফল করতে হলে প্রশিক্ষণের মান, স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা ও দক্ষতার সমন্বয়ে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন একটি পথ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।
