ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির তিন উপজেলার ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট নেওয়া হচ্ছে। বিরতিহীনভাবে এই কার্যক্রম চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলার ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলার ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে মোট ৯৮৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। ভোটগ্রহণের আগের দিন বুধবার প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য, ২১ প্লাটুন বিজিবি এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। পাশাপাশি বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পর্যবেক্ষকেরাও নির্বাচনী কার্যক্রম তদারক করছেন।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনেও একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
ভোটের আগের দিন বুধবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতেই গণনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশনের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

