আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নভেম্বরকে লক্ষ্য ধরে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

মঙ্গলবার বাসসকে তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরকে সামনে রেখে ইসি কাজ শুরু করেছে এবং নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে আনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে উপযোগী মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসি কমিশনার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগে আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ ইউপি নির্বাচন দিয়ে শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবর থেকে শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইসি। পরে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে নভেম্বরকে নতুন লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।

তবে এখনো ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পূজা, রমজান ও ঈদের মতো ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনের সময়সূচিও রয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে প্রথম ধাপে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ পরবর্তী সময়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের পর নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ ও সময়সূচি আরও স্পষ্ট হবে।

নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হলে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোট আয়োজনের পথ খুলবে। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।