স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি সংশ্লিষ্ট আইনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত রাখা হয়নি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সাক্ষাৎ হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা চলছে। যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত না থাকার ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে একজন মানুষ স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। তাই শুধু শিক্ষাগত সনদকে প্রার্থিতার শর্ত করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে লাভজনক সার্বজনীন পদে থাকা ব্যক্তিদের অযোগ্যতার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল ও কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে একাধিক পদ বা আর্থিকভাবে লাভজনক পদে থাকার বিষয়ে বিধান রয়েছে।
এই দুই ধরনের বিধান পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যাখ্যার জন্য কমিশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইতে পারে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে ২২ জুলাই নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তখনো কমিশনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আসন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন পাঠিয়েছে, তাতেও প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত রাখা হয়নি।
ফলে বর্তমান অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত সনদ প্রয়োজন হবে না—প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকছে।