কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনে জোর দিলেন ববি হাজ্জাজ
শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সনদ অর্জন করলেই কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায় না। এর পাশাপাশি ইংরেজিতে যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে শিক্ষার্থীদের। তরুণদের কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে এ কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) আয়োজিত দ্বিতীয় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টেসলবিডি ও ইউল্যাব যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতা প্রয়োজন
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন ও পেশাগত জীবন গড়ে তোলা। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সংযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যা শিখছেন, তা যেন বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন, সে অনুযায়ী তাঁদের প্রস্তুত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ইংরেজি শেখানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তনের তাগিদ
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখা ও শেখানোর ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষায় ব্যবহারিক চর্চা ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু আয়ত্ত করার বদলে ইংরেজিতে কথা বলা, অন্যের কথা বুঝতে পারা এবং নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে ইংরেজি শেখাতে শিক্ষকদেরও নিজেদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারার সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তরুণদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা সরাসরি পেশাগত কাজে ব্যবহার করা যায়।
ইংরেজি দক্ষতার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত তথ্যের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে পাওয়া যায়। ভাষাগত দুর্বলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী নিজেদের যোগ্যতা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারেন না। তবে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি বাংলায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ তরুণদের গুরুত্ব
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মমুখী শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সম্মেলনে আরও যারা উপস্থিত ছিলেন
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলি ইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।
সম্মেলনে ভাষাশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের মূল দিক ছিল, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কাজের জন্য প্রস্তুত করা। তবে এ বক্তব্যকে নতুন কোনো শিক্ষানীতি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে তাঁর মতামত ও আহ্বান।

