শিশুর হাতে মোবাইল নয়, কী দেখছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ: ঢাবির গবেষণায় নতুন তথ্য
শিশুর হাতে মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস থাকা মানেই সবসময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এমন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, শিশুদের ভাষা বিকাশে শুধু স্ক্রিনে কাটানো সময় নয়, তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে এবং সেই কনটেন্টের সঙ্গে কতটা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী ৫০ শিশুর ওপর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকরা শিশুদের মোবাইল, ট্যাব বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে কনটেন্ট ব্যবহারের ধরন এবং ভাষাগত বিকাশের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষামূলক, বয়স উপযোগী এবং ইন্টার্যাকটিভ কনটেন্ট শিশুদের শেখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবে ভিডিও দেখা বা দীর্ঘ সময় একমুখী স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রভাব দেখা যেতে পারে।
গবেষকরা মনে করছেন, শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে অভিভাবকদের উচিত তারা কী দেখছে, কতটা সময় ব্যবহার করছে এবং সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিশুরা কীভাবে যুক্ত হচ্ছে—সেদিকে নজর দেওয়া।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, ইউটিউব ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সঠিক কনটেন্ট নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ভাষা, চিন্তাশক্তি ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশে পরিবার, খেলাধুলা, বই পড়া এবং সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা শিশুদের ডিজিটাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। মোবাইল ব্যবহারের সময় কমানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শিশুর জন্য উপযুক্ত ও মানসম্মত কনটেন্ট নিশ্চিত করাও জরুরি।