দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সেপ্টেম্বর মাসে আরও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৯১৬ জন রোগী।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা পরবর্তী সময়ে মশার প্রজনন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়তে পারে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এবার শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায়ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশারি ব্যবহার এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা নয়, মশার বিস্তার রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
