এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় বলে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সূর্যাস্তের পরও এ মশার সক্রিয়তা থাকতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম আলো মশার স্বাভাবিক আচরণে কোনো পরিবর্তন আনছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন করে গবেষণা করছেন।
এডিস মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকার মতো রোগের অন্যতম বাহক। এতদিন এই মশার কামড়ানোর প্রধান সময় হিসেবে সকাল ও বিকেলের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও গবেষণায় রাতের সময়েও তাদের উপস্থিতি ও সক্রিয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
গবেষকদের মতে, মশার আচরণ পরিবেশ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো এবং মানুষের উপস্থিতির মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। শহরাঞ্চলে রাতের কৃত্রিম আলো মশার স্বাভাবিক বিশ্রাম ও সক্রিয়তার চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটি এখনো বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম আলোর কারণে এডিস মশার কামড়ানোর সময় বাড়ছে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের পরিবেশগত পার্থক্যের কারণে স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপের সঙ্গে এডিস মশার বিস্তার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। নগর এলাকায় জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেলেও প্রতিরোধের মূল উপায়গুলো এখনো একই—বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া।
রাতে মশার সক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা আরও এগোলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন।
