ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মসূচিটি চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
অভিযানের মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো। রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি, আবর্জনা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদেরও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর আগে সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল, ডেঙ্গু প্রতিরোধের তিন মাসের কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, গার্ল গাইডস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু মশা নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাকে প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেঙ্গুর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই বিশেষ অভিযান নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে একদিনে ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত এবং নয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩০ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৪৭৫-এ পৌঁছেছিল।
এরপরও সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু এবং ৭৯০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪১ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হাজার ২২০ জনে দাঁড়ায়।
রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতিও নজরে এসেছে। চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরের প্রথম নয় দিনেই ৫৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ সময়ের অনিয়মিত বৃষ্টিতে নতুন করে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
সরকারের তিন মাসের কর্মসূচিতে মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কার্যক্রম সমন্বয় করছেন। মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজ চালানোর কথা রয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্দেশ্য শুধু একটি দিনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বাড়ি ও আশপাশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আগামী তিন মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। এখন এই কর্মসূচি কতটা নিয়মিতভাবে মাঠে বাস্তবায়ন করা যায় এবং মশার প্রজননস্থল কার্যকরভাবে ধ্বংস করা যায় কি না, তার ওপরই অভিযানের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করবে।
