বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হলেও মামলার চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে ২৫ আসামির সাজা বহাল থাকার পর কয়েকজন আসামি আপিল বিভাগে আবেদন করায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মামলা।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরদিন ভোরে হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ বুয়েট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
দুই বছরের বেশি সময় বিচার চলার পর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় দেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিলের শুনানি হয় হাইকোর্টে। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্টও ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন।
তবে হাইকোর্টের রায়েই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামি আপিল বিভাগে আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়াও এগোতে পারছে না।
আবরারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, রাষ্ট্র হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি, কারণ বিচারিক আদালতের রায়ই হাইকোর্ট বহাল রেখেছেন। তিনি জানান, আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো ধরনের বিলম্ব করবে না এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়।
আবরারের পরিবারও দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। তার বাবা বরকত উল্লাহ বলেছেন, দুই আদালতে রায় হওয়ার পরও সাজা কার্যকর না হওয়ায় তারা হতাশ। আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজও জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের পর তারা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও মামলাটি নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী এগোনোর কথা বলা হয়েছে।
এদিকে আবরারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ অক্টোবর বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আসরের নামাজের পর অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বুয়েট এক বিবৃতিতে আবরারের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
আবরার হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আন্দোলন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে নির্যাতন, ছাত্ররাজনীতি এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে সব ধরনের সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।
সাত বছর পর মামলাটিতে দুটি আদালতের রায় হয়ে গেছে, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ এখনো বাকি। এখন নজর আপিল বিভাগের দিকে—সেখানে আবেদনগুলোর নিষ্পত্তির পরই নির্ধারিত হবে মামলাটির চূড়ান্ত পরিণতি ও সাজা কার্যকরের পরবর্তী পথ।



