রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অব্যবহৃত খাস জমি কাজে লাগিয়ে বড় আকারের এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রামপালের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ এগোচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ আরও বাড়বে।
সরকারের লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির বৈচিত্র্য তৈরি করা এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো। সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রামপাল এলাকায় বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি নির্বাচন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মতো প্রাথমিক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো দেশে সৌরবিদ্যুতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।
তবে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয় সঠিকভাবে পরিকল্পনা করেই এগোতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রামপালের ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।




