রাজধানী ঢাকার নদীগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমছে। একটি সমীক্ষায় ৪২৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৩০ টন বর্জ্য নদীতে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদী দূষণের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণের পেছনে শিল্পবর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব নদীর পানি দূষিত হওয়ায় জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হুমকির মুখে পড়েছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত তরল ও কঠিন বর্জ্য পর্যাপ্ত পরিশোধন ছাড়াই নদীতে গিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিল্প এলাকার কাছাকাছি নদীর পানিতে দূষণের মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দীর্ঘদিন ধরে দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব নদীর তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও বসত এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা বা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নদী পরিষ্কার করলেই দূষণ বন্ধ হবে না। নদীতে বর্জ্য যাওয়ার উৎস বন্ধ করা, শিল্পকারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি।
নদী শুধু পানির উৎস নয়, এটি একটি শহরের পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঢাকার নদীগুলোকে রক্ষা করতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের দায়িত্বশীল আচরণও প্রয়োজন।
নদী দূষণ কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা, কঠোর নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সুরক্ষা উদ্যোগই পারে রাজধানীর নদীগুলোকে আবার জীবন্ত করে তুলতে।


