বন্যপ্রাণী পাচার ও সংশ্লিষ্ট আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নতুন উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নেটওয়ার্ক (SAWEN) সদস্য দেশগুলো ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা’ গ্রহণ করেছে।

ঘোষণায় বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো, সীমান্ত নজরদারি শক্তিশালী করা এবং তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যপ্রাণী পাচার বর্তমানে শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গেও যুক্ত। সীমান্ত পার হয়ে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় একক দেশের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আঞ্চলিক সমন্বয়।

কাঠমান্ডু ঘোষণায় অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাচারকারীদের কার্যক্রম শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

SAWEN-এর সদস্য দেশগুলো বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে যুক্ত অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঞ্চল। এই অঞ্চলে বাঘ, হাতি, গণ্ডার, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বিরল প্রাণীর আবাস রয়েছে। তবে অবৈধ শিকার ও পাচারের কারণে এসব প্রাণী হুমকির মুখে রয়েছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, হাতি চলাচলের পথ রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

কাঠমান্ডু ঘোষণার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে একটি সমন্বিত কাঠামোর দিকে এগোতে চায়। আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যকর হলে বিরল প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বন্যপ্রাণী পাচার মোকাবিলায় এই নতুন অঙ্গীকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার যৌথ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।