দেশে বাংলা QR কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত জুনে এই ব্যবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ৪০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৬০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করতে এবার রাজধানীর বনানী ও গুলশানের বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে বাংলা QR সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী ও গুলশানে কয়েকটি খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্কে বাংলা QR সেবা সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সেবাটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে নগদবিহীন লেনদেনের পরিধি বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলা QR ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে লেনদেনের সুবিধাও চালু

বাংলা QR ব্যবস্থার সেবার মান বাড়াতে গত ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বা পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) লেনদেনের সুবিধা চালু করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি গভর্নর।

নতুন এই সুবিধার ফলে ব্যবহারকারীরা বাংলা QR ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে অর্থ পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন। আগে মূলত পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি দেখা গেলেও নতুন সুবিধায় ব্যক্তিগত লেনদেনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলা QR-এর অন্যতম সুবিধা হলো, এটি একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবস্থা। ফলে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং পেমেন্ট সেবার গ্রাহকেরা একই কোড ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। এতে আলাদা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রয়োজন কমে আসে।

তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণে রয়েছে চ্যালেঞ্জ

বাংলা QR-এর ব্যবহার বাড়লেও দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকায় এই সেবা পৌঁছে দিতে কিছু বাধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর।

তাঁর মতে, অনেক এলাকায় স্মার্টফোন ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের সীমিত সুযোগ ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে ব্যাংক, খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলা QR-এর বিস্তারের ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ হবে।

নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দোকান, বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায় বাংলা QR ব্যবহারের সুযোগ বাড়লে গ্রাহকেরা নগদ টাকা ছাড়াই পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এতে ছোট ব্যবসায়ীদেরও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বড় শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট চালু রাখা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকের কাছে একই ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া।

বাংলা QR-এ দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ চার গুণ হওয়া ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক সুবিধা, স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা এবং ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন হবে।