বিদেশে শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি যাচাই ও সত্যায়নের প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু হওয়া বাংলাদেশের e-Apostille ব্যবস্থায় ২৯ লাখের বেশি সনদ ইস্যু হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিকরা অনলাইনে নথি সত্যায়নের সুবিধা পাচ্ছেন। আগে যেসব প্রক্রিয়ায় সরাসরি অফিসে গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়া ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, ডিজিটাল ব্যবস্থায় তা অনেক সহজ হয়েছে।
Apostille হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নথি সত্যায়ন পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি দেশের সরকারি নথি অন্য দেশে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। বাংলাদেশ e-Apostille ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে অনলাইনে নিয়ে এসেছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদ, বিয়ে নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নথির সত্যায়নের প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার ফলে এসব নথি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময় ও ভোগান্তি কমছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, e-Apostille সেবা চালুর ফলে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি জাল নথি শনাক্ত করাও সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।
ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। e-Apostille তারই একটি অংশ, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নথি ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করা হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য নথি সত্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এ কারণে e-Apostille ব্যবস্থার ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৯ লাখের বেশি সনদ ইস্যুর এই অগ্রগতি বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার বিস্তারের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নাগরিকদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করাই এখন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
